খোলা জানলা...
খোলা জানলা...
একটা গোটা প্রবন্ধ কেটে গেছে, কেবলই এই জানলার বাইরে চেয়ে বসে থেকে। কতো কতো পাখিদের উড়ে যেতে দেখলাম। ওরা ওদের ডানা মেলে উড়ে যায়, যেনো একটু আগেই কোনো সোনার জাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। শতবার মার খাবার পরেও, বিড়ালটা উঠে বসে থাকে সামনের বাড়ির টালির ওপর। জানিনা কেন রোজ রোজ ফিরে আসে মার খেতে, হয়তো ওর ও একটু রোদের উষ্ণতা চাই...
রোজ দুপুরে ঠিক একটা বেজে একুশ মিনিটে, আমার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক চিলতে হাসি। সাত থেকে সাড়ে সাত মিনিটের জন্য জানলা দিয়ে সূর্যের রশ্মি, আমার সাথে দেখা করতে আসে। বেস কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি রোদ্দুরের মধ্যে ভেসে থাকা ধূলিকণা গুলোর দিকে। প্রত্যেকটা ধূলিকণাকে যেনো সোনালী রঙের অভ্রের মতো লাগে। মা ভাতের থালা বেড়ে ডাক দেয়, "কিরে খাবিনা?", বিদায় জানাতে হয় সেই ঝলমলে, ঘর আলো করে তোলা সূর্যের আলোকে। খেয়ে এসে, আর খুঁজে পাইনা... ফের চেয়ে বসে থাকি, পরের দিনের একটা বেজে একুশ মিনিটের জন্য...
এই ঘরের বাইরের দুনিয়াটা, অনেক বড়ো হতে পারে। তবে, আমার নিজের বানানো একটা গোটা রাজ্য আছে এই জানলার ভেতরে। যে রাজ্যে, কোনো বাস্তবতা নেই, আছে শুধুই খামখেয়ালিপনা। রোজ একটু একটু করে মায়া দিয়ে বুনেছি এই ভালোবাসার সোয়েটার। নেই কোনো রাজনীতি, হানাহানি, বোমা বাজি, নাই বা কোনো দারিদ্রতা। আছে একটু খানি আদর, একটু খানি অপেক্ষা, আর অনেকটা সরলতা।
জানলার জালের খোপ গুলো গোনা যেনো রোজকার অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন খারাপেও গুনি, আবার রাগের মাথাতেও গুনি। এক, দুই, তিন... একশো... দেড়শো... আড়াইশো... তিনশো... গুনে যাই লাগাতার। মোট তিনশো বাহাত্তর খানা খোপ আছে। এই জন্যেই, আমার রাজ্যে তিনশো পঁয়ষট্টি বা তিনশো ছেষট্টি দিন থাকে না। আমার এই ছোট্ট রাজ্য অনেক বড়ো! যেখানে আমি অন্য পাঁচজনের থেকে কয়েকদিন আরও বেশি বাঁচি...
@_arushmita_

আমরা বধোয় এই নিজের বানানো রাজ্যতেই সুখে থাকি 😌
ReplyDelete